জেলার ইতিহাস

চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগ, বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা।[১] পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে এ জেলা অবস্থিত। ইলিশ মাছের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল হিসেবে চাঁদপুরকে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর নামে ডাকা হয়।[২]

আয়তন ও অবস্থান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২৩°০০´ থেকে ২৩°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩২´ থেকে ৯১°০২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে চাঁদপুর জেলার অবস্থান।[৩] রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৯৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ২০৮ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলার মোট আয়তন ১,৭০৪.০৬ বর্গ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলামেঘনা নদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলা ও নোয়াখালী জেলা, পূর্বে কুমিল্লা জেলা, পশ্চিমে মেঘনা নদীমুন্সীগঞ্জ জেলাশরীয়তপুর জেলা ও বরিশাল জেলা। পদ্মা ও মেঘনা নদী দুটি চাঁদপুর শহরের কাছে এসে মিলেছে।[২]

ইতিহাস

মধ্যযুগ

১৫৬০ খ্রিস্টাব্দের জীন্ ডি ব্যারোসের মানচিত্রে নদী তীরবর্তী ‘ট্রপো’র অবস্থান দেখানো হয়েছে। উক্ত ‘ট্রপো’ তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা বা কুমিল্লা অঞ্চল। সুতরাং বর্তমান চাঁদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান নিকট ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়। ১৬৫২ সালে পর্তুগীজ নাবিক স্যানসন দ্যা আবেভিল অঙ্কিত মানচিত্রে বান্দের নাম চিহ্নিত স্থানে একটি বড় নদী বন্দর ছিলো এবং সেটি চাঁদপুর বন্দর ছিলো। ১৭৭৯ খ্রি. ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস্ রেনেল তৎকালীন বাংলার যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তাতে কেবলমাত্র ত্রিপুরা জেলাই দেখানো হয়নি– চাঁদপুর ও কুমিল্লার সঠিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে।[৪]

প্রতিষ্ঠাকাল

১৮৭৮ সালে ত্রিপুরা জেলা (পরবর্তীতে যা কুমিল্লা নামে পরিচিত) যে তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত হয়, তার মধ্যে চাঁদপুর অন্যতম। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলায় উন্নীত হয়।[৫] যা এখনো বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলেরই অংশ। সারাদেশের দূরবর্তী জেলার মানুষ বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ হিসেবেই চিনে চাঁদপুরকে।

নামকরণ

চাঁদপুর নামক জনপদের বয়স হাজার বছরের বেশি হলেও এর নামকরণ ৭০০ বছরের বেশি নয়।

চাঁদপুরের পূর্ব নাম ছিলো -জুবকীবাজার।চাঁদপুরের নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ৪টি প্রচলিত ধারনা রয়েছে।

১/বর্তমান কোড়ালিয়ার পূর্বনাম (পুরিন্দপুর ) বিশিষ্ট সাধক চাঁদ ফকির।বিশিষ্ট সাধক সাত ফকির ১৭৮০/১৭৮১ সালে মারা যান তার পূর্ণ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিষ্য ও ভক্তরা এ অঞ্চলকে চাঁদপুর নামে অভিহিত করতেন।

১/পঞ্চদশ শতকে দিল্লি থেকে আগত প্রশাসক শাহ আহমেদ চাঁদ।অনেকে মনে করতেন দিল্লি শাসক শাহ আহমেদ চাঁদের নামানুসারে চাঁদপুরের নামকরণ।তিনি ১৪৯৪ থেকে ১৫৩৫ সাল পর্যন্ত মেঘনা পাড়ের চাঁদপুর সীতাকুণ্ডের চাঁদপুর আসামের চারা চাঁদপুর চট্টগ্রামের চাঁদগাও পটিয়ার চাঁদখালী এলাকায় দিল্লির সুলতান কর্তৃক নিয়োজিত প্রশাসক ছিলেন।

২/বর্তমান কোড়ালিয়ার পূর্বনাম (পুরিন্দপুর ) বিশিষ্ট সাধক চাঁদ ফকির।বিশিষ্ট সাধক সাত ফকির ১৭৮০/১৭৮১ সালে মারা যান তার পূর্ণ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিষ্য ও ভক্তরা এ অঞ্চলকে চাঁদপুর নামে অভিহিত করতেন

৩/বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদ রায়। ঐতিহাসিক জেমস সেনগুপ্তের মতে প্রায় 400 বছর আগে বিক্রমপুরের বিখ্যাত জমিদার চাঁদ রায়ের জমিদারি চাঁদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার নামানুসারে চাঁদপুরের নামকরণ।

৪/লোককথার বিখ্যাত চরিত্র সপ্তডিঙ্গা মধুকর বণিক চাঁদ সওদাগর বাণিজ্য করতে অঞ্চলে আসতেন তার নামানুসারে চাঁদপুরের নামকরণ হয়।

পৃথক পৃথকভাবে এ চারজনের নামে চাঁদপুরের নামকরণ হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।

অন্যমতে, চাঁদপুর শহরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন। তার নামানুসারে নাম হয়েছে চাঁদপুর।[৬]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালের ১২ মে পাকবাহিনী হাজীগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ৫০ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এ গণহত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালালে পাকবাহিনীর ১৭ জন সৈন্য নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া, সূচীপাড়া এবং উনকিলার পূর্বাংশে বেলপুরের কাছে মিত্র বাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর সংঘর্ষে মিত্র বাহিনীর ১৩ জন সৈন্য এবং পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।[৭]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

  • মুক্তিযুদ্ধের স্মারক: অঙ্গীকার (ভাস্কর্য), ফরিদগঞ্জ উপজেলার শহীদদের নাম ও ঠিকানা উৎকীর্ণ স্মৃতিফলক আমরা তোমাদের ভুলব না, মতলবের দীপ্ত বাংলাদেশচান্দ্রাকান্দি স্মৃতিসৌধ (সাদুল্লাহপুর, মতলব), রক্তধারা (চাঁদপুর সদর) ।
  • বধ্যভূমি: রঘুনাথপুর বাজার (হাজীগঞ্জ), হামিদিয়া জুট মিলস প্রাঙ্গণ, রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিণ।
  • গণকবর: নাসিরকোট (হাজীগঞ্জ)।[৮]

ভৌগোলিক পরিচয়

চাঁদপুর জেলার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন যুগে। চাঁদপুর জেলার ভৌগোলিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় পার্গিটার রচিত পূর্ব-ভারতীয় দেশসমূহের প্রাচীনকালের মানচিত্রে। ওই মানচিত্রে আজকের বাংলাদেশের এই অঞ্চলের দক্ষিণে সাগরনূপের, উত্তরে প্রাগজ্যোতিষ ও পূর্ব ভাগের পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল ‘কিরাতাস’ নামে অভিহিত ছিল। তৎকালীন লোহিত নদীর (আজকের ব্রক্ষ্মপুত্র নদ) পলি দ্বারা ‘কিরাতাস’ অঞ্চল গঠিত। ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান নিয়েই তৎকালীন কুমিল্লা জেলা গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ চাঁদপুর জেলাও উক্ত ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। টমাস ওয়াটারের মানচিত্রে পূর্ব-ভারতীয় অঞ্চলের এ স্থানে তিতাস ও সম্ভবতঃ গোমতী নদীর গতিপথের দক্ষিণে ‘শ্রীক্ষেত্র’ নামক স্থানের অবস্থান দেখানো হয়েছে। বর্তমান চাঁদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার পশ্চিমাংশ নিয়ে তৎকালীন ‘শ্রীক্ষেত্র’ গঠিত হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।[৯][২]

ব্র্যান্ডিং জেলা

দেশ-বিদেশে চাঁদপুরকে বিশেষভাবে উপস্থাপনের জন্য ২০১৫ সালের আগস্ট মাস হতে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মণ্ডল। ইলিশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর ব্র্যান্ডিং নাম দেন ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর । ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুরকে স্বীকৃতি দেয়। এ নামানুসারে একটি লোগো রয়েছে, যা অঙ্কন করেছেন এ জেলার সন্তান বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান। একইসাথে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর এর রূপকার হিসেবে স্বীকৃতি পান তৎকালিন (২০১৫-২০১৮) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মণ্ডল।[১০]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

চাঁদপুর জেলা ৮টি উপজেলা, ৮টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন, ১০৪১টি মৌজা, ১৩৬৫টি গ্রাম ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

উপজেলাসমূহ

চাঁদপুর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:[১১]

ক্রম নংউপজেলাআয়তন[৩]
(বর্গ কিলোমিটারে)
প্রশাসনিক থানাআওতাধীন এলাকাসমূহ
০১কচুয়া২৩৫.৮১কচুয়াপৌরসভা (১টি): কচুয়া
ইউনিয়ন (১২টি): সাচারপাথৈরবিতারাপালাখালসহদেবপুর পশ্চিমকচুয়া উত্তরকচুয়া দক্ষিণকাদলাকড়ইয়াগোহট উত্তরগোহট দক্ষিণ এবং আশরাফপুর
০২চাঁদপুর সদর৩০৮.৭৮চাঁদপুর সদরপৌরসভা (১টি): চাঁদপুর
ইউনিয়ন (১৪টি): বিষ্ণুপুরআশিকাটিকল্যাণপুরশাহ মাহমুদপুররামপুরমৈশাদীতরপুরচণ্ডীবাগাদীবালিয়ালক্ষ্মীপুরইব্রাহিমপুরচান্দ্রাহানারচর এবং রাজরাজেশ্বর
০৩ফরিদগঞ্জ২৩১.৫৬ফরিদগঞ্জপৌরসভা (১টি): ফরিদগঞ্জ
ইউনিয়ন (১৫টি): বালিথুবা পশ্চিমবালিথুবা পূর্বসুবিদপুর পূর্বসুবিদপুর পশ্চিমগুপ্টি পূর্বগুপ্টি পশ্চিমপাইকপাড়া উত্তরপাইকপাড়া দক্ষিণগোবিন্দপুর উত্তরগোবিন্দপুর দক্ষিণচর দুঃখিয়া পূর্বচর দুঃখিয়া পশ্চিমফরিদগঞ্জ দক্ষিণরূপসা উত্তর এবং রূপসা দক্ষিণ
০৪মতলব উত্তর২৭৭.৫৩মতলব উত্তরপৌরসভা (১টি): ছেংগারচর
ইউনিয়ন (১৪টি): ষাটনলবাগানবাড়ীসাদুল্লাপুরদুর্গাপুরকলাকান্দামোহনপুরএখলাছপুরজহিরাবাদফতেপুর পূর্বফতেপুর পশ্চিমফরাজিকান্দিইসলামাবাদসুলতানাবাদ এবং গজরা
০৫মতলব দক্ষিণ১৩১.৬৯মতলব দক্ষিণপৌরসভা (২টি): মতলব এবং নারায়ণপুর
ইউনিয়ন (৫টি): নায়েরগাঁও উত্তরনায়েরগাঁও দক্ষিণখাদেরগাঁওউপাদী উত্তর এবং উপাদী দক্ষিণ
০৬শাহরাস্তি১৫৪.৮৩শাহরাস্তিপৌরসভা (১টি): শাহরাস্তি
ইউনিয়ন (১০টি): টামটা উত্তরটামটা দক্ষিণমেহের উত্তরমেহের দক্ষিণরায়শ্রী উত্তররায়শ্রী দক্ষিণসূচীপাড়া উত্তরসূচীপাড়া দক্ষিণচিতোষী পূর্ব এবং চিতোষী পশ্চিম
০৭হাইমচর১৭৪.৪৯হাইমচরইউনিয়ন (৬টি): গাজীপুরআলগী দুর্গাপুর উত্তরআলগী দুর্গাপুর দক্ষিণনীলকমলহাইমচর এবং চর ভৈরবী
০৮হাজীগঞ্জ১৮৯.৯০হাজীগঞ্জপৌরসভা (১টি): হাজীগঞ্জ
ইউনিয়ন (১১টি): রাজারগাঁও উত্তরবাকিলাকালচোঁ উত্তরকালচোঁ দক্ষিণহাজীগঞ্জ সদরবড়কুল পূর্ববড়কুল পশ্চিমহাটিলা পূর্বগন্ধর্ব্যপুর উত্তরগন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণহাটিলা পশ্চিম এবং দ্বাদশ গ্রাম

সংসদীয় আসন

সংসদীয় আসনজাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১২]সংসদ সদস্য[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]রাজনৈতিক দল
২৬০ চাঁদপুর-১কচুয়া উপজেলাশূণ্য
২৬১ চাঁদপুর-২মতলব দক্ষিণ উপজেলা এবং মতলব উত্তর উপজেলাশূণ্য
২৬২ চাঁদপুর-৩চাঁদপুর সদর উপজেলা এবং হাইমচর উপজেলাশূণ্য
২৬৩ চাঁদপুর-৪ফরিদগঞ্জ উপজেলাশূণ্য
২৬৪ চাঁদপুর-৫হাজীগঞ্জ উপজেলা এবং শাহরাস্তি উপজেলাশূণ্য

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৬,৩৫,৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২,২৮,৭৭৪ জন এবং মহিলা ১৪,০৫,৬৮২ জন। মোট পরিবার ৬,৩৫,৪৫৮টি।[১৮]

চাঁদপুর জেলায় ধর্মবিশ্বাস-২০২২

  1. ইসলাম (৯৪.৩৭%)
  2. হিন্দু ধর্ম (৫.৫৫%)
  3. অন্যান্য ধর্ম (০.০৮%)

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৪.৩৭% মুসলিম, ৫.৫৫% হিন্দু, ০.০১% বৌদ্ধ এবং ০.০২% খ্রিষ্টান ও ০.০৫% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এছাড়া কিছু সংখ্যক ত্রিপুরা উপজাতি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে এ জেলায়।[১৯]

শিক্ষা ব্যবস্থা

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৬৮.০৫%। [১৮] এ জেলায় রয়েছে:

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় : ১টি সরকারি
  • মেডিকেল কলেজ : ১টি সরকারি
  • সরকারি অর্নাস কলেজ : ৫টি
  • সরকারি ডিগ্রি কলেজ : ৪টি
  • বেসরকারি অর্নাস কলেজ : ৪টি
  • বেসরকারি ডিগ্রি কলেজ : ২১টি
  • সরকারি স্কুুল এন্ড কলেজ : ১টি
  • স্কুল এন্ড কলেজ : ২৬টি
  • সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ১০টি
  • সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট : ১টি
  • মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট : ১টি
  • মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট : ১টি
  • সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ : ৩টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ২৩৯টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১১২০টি
  • মাদ্রাসা : ১২৫৭টি
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : ১টি
  • নার্সিং ইনস্টিটিউট : ৪টি
  • আইন(ল’) কলেজ : ১টি
  • হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ : ১টি
  • ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ : ১টি।[২০]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মূল নিবন্ধ: চাঁদপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা

অর্থনীতি

চাঁদপুর জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। নদী তীরবর্তী এলাকা বলে প্রায় ৩০% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত। এছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক ব্যবসায়ী বিদ্যমান। জেলা সদরে অনেক মাছের আড়ত রয়েছে, যা জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাটে বড় বড় বহু শিল্পকারখানা রয়েছে। এই জায়গাটিকে সরকার বিসিক শিল্প নগরী ঘোষণা করে।[২১] এই এলাকাটি চাঁদপুর সহ অন্যান্য জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নগরী। মেঘনার ভাঙ্গনে প্রতি বছর চাঁদপুর জেলার আয়তন কমে যায়। প্রতি বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়, ফলে বর্ষাকালে চাঁদপুর মাছের মাতৃভূমি হয়ে যায়। জেলার প্রধান শস্য ধান, পাট, গম, আখ। রপ্তানী পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, নারিকেল, চিংড়ি, আলু, ইলিশ মাছ, সবুজ শাক-সবজি, বিসিক নগরীর তৈরি পোশাক শিল্প।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

চাঁদপুর জেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল ঢাকা-চাঁদপুর মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর মহাসড়ক। শুধুমাত্র চাঁদপুর জেলার জন্য আলাদা একটি রেলপথ রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন চাঁদপুর-চট্টগ্রাম এবং চাঁদপুর-কুমিল্লার আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জেলা শহর থেকে নৌপথে যোগাযোগের জন্যে রয়েছে চাঁদপুর নদী বন্দর[২২]

নদী

চাঁদপুর জেলা নদীর জেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে জালের মতো বিস্তৃত আছে অনেক নদী। এ জেলার প্রধান ৪টি নদী হল মেঘনাপদ্মাডাকাতিয়া ও ধনাগোদা নদী

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

চাঁদপুর জেলায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে:

  • জেনারেল হাসপাতাল : ১টি (২৫০ শয্যাবিশিষ্ট)
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ৮টি
  • আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র -আইসিডিডিআর,বি : ১টি
  • মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র : ৭টি
  • চক্ষু হাসপাতাল : ৪টি
  • বক্ষব্যাধী হাসপাতাল : ১টি
  • ডায়বেটিক হাসপাতাল : ১টি
  • রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল : ১টি
  • রেলওয়ে হাসপাতাল : ১টি
  • বেসরকারি হাসপাতাল : ৭৩টি
  • বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিক : ৭টি
  • ডায়গনস্টিক সেন্টার : ১০৭টি।

পত্র-পত্রিকা

  • দৈনিক: ১৬টি; চাঁদপুর কণ্ঠ, চাঁদপুর দর্পণ, চাঁদপুর জমিন, চাঁদপুর প্রবাহ, চাঁদপুর বার্তা, চাঁদপুর প্রতিদিন, চাঁদপুর সংবাদ, চাঁদপুর দিগন্ত, আলোকিত চাঁদপুর, চাঁদপুর খবর, মেঘনা বার্তা, ইলশেপাড়, মতলবের আলো, সুদীপ্ত চাঁদপুর, শাহরাস্তি বার্তা।
  • সাপ্তাহিক: ১৩টি; দিবাচিত্র, রূপালী চিত্র, রূপসী চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, দিবাকণ্ঠ, মানব সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার, চাঁদপুর কাগজ, মতলব কণ্ঠ, নতুনের ডাক, চাঁদপুর সকাল, লাল সবুজের মেলা, শাহরাস্তি।
  • পাক্ষিক: ৩ টি; কচুয়া কণ্ঠ, কচুয়া বার্তা, চাঁদনগর।
  • মাসিক: ৩টি; ফরিদগঞ্জ বার্তা, পল্লী কাহিনী, হেরার পয়গাম।
  • অনলাইন পত্রিকা: ৭টি; চাঁদপুর টাইমস, চাঁদপুর নিউজ, ফোকাস মোহনা.কম, চাঁদপুর ওয়েব, চাঁদপুর রিপোর্ট, হাইমচর সংবাদ।

ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

আরও দেখুন